অন্তঃকোন্দল চরমে

‘কমিটি কমিটি’ খেলা ছাত্র ইউনিয়নে

ডিউ নিউজ ডেস্ক / ২১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

ইতিহাসে অনন্য গৌরবগাথার ছাত্র ইউনিয়নে চলছে ‘কমিটি কমিটি’ খেলা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে অন্যান্য সংসদের দ্বন্দ্ব—এ ছাড়া ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও মহানগরের সাত নেতাকর্মীর বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ফলে স্তিমিত হয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম।

 

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম জাতীয় সম্মেলন হয় গত বছরের ১৯ নভেম্বর। এরপর ২২ নভেম্বর ফয়েজ উল্লাহকে সভাপতি ও দীপক শীলকে সাধারণ সম্পাদক করে পরবর্তী এক বছরের জন্য ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের পরপরই সম্মেলন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নবগঠিত কমিটির বিরোধিতা করে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও মহানগরের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফের সম্মেলনের দাবি জানান তাঁরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনে ‘বিশৃঙ্খলা ও উপদলীয় তৎপরতার’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের চতুর্থ কার্যনির্বাহী সভায় সাত নেতাকর্মীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ‘সংগঠনবিরোধী’ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সে সময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে সতর্কও করা হয়। মূলত ওই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও মহানগর শাখার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাদা কর্মসূচি পালন করে দুটি অংশ। অন্তঃকোন্দল মেটাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনটির ভূমিকা কমে গেছে।

 

ছাত্র ইউনিয়ন সূত্র জানায়, নতুন কমিটি হওয়ার পর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও বিরোধ মেটাতে পারেনি সংগঠনটির হাইকমান্ড। ঐক্য প্রচেষ্টায় গত ১২ এপ্রিল জরুরি জাতীয় সম্মেলনের ডাক দেন বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল সংগঠনের সম্পাদকমণ্ডলীর একটি জরুরি সভায় ওই জরুরি সম্মেলন বাতিলের আহ্বান জানানো হয়। আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে বহিষ্কৃত অংশ। এতে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহাল রেখে বহিষ্কৃতদের স্থান দেওয়া হয়। এই কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেন বর্তমান নেতারা। এরই মধ্যে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে জাতীয় পরিষদের সভায় সিদ্ধান্তের পর তা কার্যকর করার কথা বলা হয়। কিন্তু এরপর জাতীয় পরিষদের আর কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

এই অবস্থায় গত ১৮ জুন বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা নিজেদের মতো করে সংগঠনের জাতীয় পরিষদের সভা ডেকে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন এবং ওই দুজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বহিষ্কৃত নেতারা। বহিষ্কৃতদের এ ঘোষণাকে সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছেন অন্যপক্ষ।

 

সার্বিক বিষয়ে রাগীব নাঈমের দাবি, ‘১৯ নভেম্বরের সম্মেলনে বেশ কিছু ত্রুটি ছিল। এ কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখতে হলে নিজেদের ভুলভ্রান্তি শোধরাতে হবে। কিন্তু ফয়েজ-দীপক কমিটি ভুল হয়েছে সেটা মানতেই নারাজ। ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ছাত্র ইউনিয়নকে নামসর্বস্ব সংগঠন বানানোর অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ কারণে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

 

অস্থিরতার বিষয়ে ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃতরা কখনো নেতৃত্বে আসতে পারবে না। রাগীব নাঈম সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত। কিন্তু তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। এ থেকেই স্পষ্ট, একটি গোষ্ঠী ছাত্র ইউনিয়নের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিতর্কিত করতেই এই অশুভ তৎপরতা চালাচ্ছে।’

 

কৃতজ্ঞতা: দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিবেদক হাসান মেহেদী’র প্রতিবেদন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ