ঢাবি গবেষণা প্রবন্ধে দেশসেরা, সংখ্যা বৃদ্ধিতে যবিপ্রবি

ডিউ নিউজ ডেস্ক / ৫২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ৮০৯১টি, যা ২০১৯ সাল থেকে ২৪টি বেশি। ২০১৬ থেকে বাংলাদেশের গবেষণা বৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ২০ শতাংশ, যা ২০২০–এ এসে হোঁচট খেয়ে দাঁড়িয়েছে ০.৩ শতাংশে। ২০১৫ সালে অবশ্য এই হার অবশ্য ৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা কিনা এই শতাব্দীতে সর্বনিম্ন। তবে ভালো দিক হচ্ছে ২০২০–এ প্রকাশিত মোট প্রবন্ধের মধ্যে কনফারেন্স পেপার ১১৪৮টি (১৪ শতাংশ), যা ২০১৯ সালে ছিল ৩০৯৯টি (৩৯.৪ শতাংশ)।

 

যেসব প্রতিষ্ঠান অন্তত ২০০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে তার মধ্যে প্রথমে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৭৫৪টি প্রবন্ধ)। আর ১৩তম স্থানে আছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (২১৪টি প্রবন্ধ)। ১৪তম স্থানে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে রাখা হয়েছে, কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৩০৮ থেকে ৫৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

 

অবশ্য ২য় স্থানে থাকা বুয়েটের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রবণতা দেখা গেছে, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮০৪টি থেকে ৫৮ শতাংশ কমে ৫০৮টি হয়েছে! করোনা অতিমারিতে যেহেতু শিক্ষার্থীরা সশরীরে গবেষণায় অংশ নিতে পারেনি, তা হয়তো একটি বড় কারণ হয়ে থাকতে পারে, যেহেতু প্রকৌশলে গবেষণা পরীক্ষণ-নির্ভর। এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা কমে গেছে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালো করতে থাকা দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (২৮১টি) এবং ব্র্যাক (২৫৮টি)।

 

গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৪২ শতাংশ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (৩৫ শতাংশ) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (৩১ শতাংশ)।

 

ব্যক্তিগত ৬৫টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে প্রথম স্থানে আছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের তাহমীদ আহমেদ। তারপর ৫৫টি প্রবন্ধ প্রকাশ করে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাওসার আহমেদ এবং ঢাকার ফার্মাকন রিসার্চ নেটওয়ার্ক-এর মো. সাহাব উদ্দিন।

 

বরাবরের মতোই এবার অধিকাংশ প্রবন্ধই ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে সর্বাধিক ২১৬০টি প্রকাশিত হয়েছে মেডিসিন সম্পর্কিত, তারপর আছে প্রকৌশল ১৮২১টি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ১৫৭৩টি, কৃষি এবং জীববিজ্ঞান ১১৮০টি, পরিবেশবিজ্ঞান ৯৮২টি প্রাণরসায়ন, জেনেটিক্স এবং অনুপ্রাণ বিজ্ঞান ৯৫৯টি এবং সমাজ বিজ্ঞানে ৮০৬টি।

 

সবচেয়ে বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপেন এক্সেস প্রকাশনা প্লস-এর প্লস ওয়ান (১০৭টি), নেচার গ্রুপের সায়েন্টিফিক রিপোর্ট (৭৩টি) এবং সেল প্রেসের হেলিয়ন (৬৯টি) জার্নালে। যেসব প্রতিষ্ঠান এ বছরের গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে তার মধ্যে জাপান সোসাইটি ফর প্রোমোশন অব সায়েন্স (১৫৭টি), চায়নার ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (১৪৩টি), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ (১৩৭টি), বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন (১২৬টি) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১০১টি।

 

কৃতজ্ঞতা: প্রতিবেদনটি দৈনিক প্রথম আলো’য় মো. মাহবুব হাসান, শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট গবেষক, কিংস কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্য লিখেছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ