ঐতিহাসিক আমতলা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই

ডিউ নিউজ ডেস্ক / ৫০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
অরক্ষিত সেই ঐতিহাসিক আমতলা।

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক আমতলা সংরক্ষণের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। প্রশাসনের উদসীনতায় স্থানটি হকারদের রাজত্বে পরিণত হয়েছে। ফলে স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে স্থানটি। ভয়ানক বিষয় হল, রাতে এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) জরুরি বিভাগের গেট সংলগ্ন স্থান আমতলা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই আমতলা থেকে পাকিস্তানি সামরিক শাসকের জারি করা ১৪৪ ধারাকে উপেক্ষা করে প্রথম মিছিল বের হয়। ওই মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। এতে সালাম, রফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন। তাদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা রক্ষা পায়। এ কারণে পঞ্চাশের শেষ ভাগ এবং ষাটের দশকের প্রতিটি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয় এই আমতলা। ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আমতলায় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ভাষার জন্য রক্তদানের স্থান তথা ভাষা-শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত আমতলা এখন অবহেলা-অনাদরে মলিন। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে স্থানটি তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলার গেটের সামনে পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। এখানে পঞ্চাশের অধিক ভাসমান দোকান রয়েছে। এর কোনোটিতে ফল, কোনোটিতে প্লাস্টিক পণ্য, পিঠা, ডিম, চা, সিগারেট, তোশক-বালিশ, ফলের জুসসহ নানা জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। এই গেটের দেয়ালে লাগানো আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার পোস্টার। আর রাতের আঁধারে এই গেটের নিচে দেখা যায় মাদকসেবীদের আড্ডা। এটাকে দেখে সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় যে, এটিই ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত সেই ঐতিহাসিক আমতলা।

 

গেটের সামনে কথা হয় কিশোরগঞ্জের তরুণ সাব্বির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় আগে কখনও আসিনি। আজই প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছি। এখানে চায়ের দোকান দেখে চা খেতে দাঁড়ালাম। কিন্তু এই জায়গাটা যে ঐতিহাসিক কোনো স্থান, তা বোঝার উপায় নেই। আপনার কাছে শুনে জানতে পারলাম বাংলা ভাষার জন্য এখানেই রক্ত দিয়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা।

 

আবদুল হামিদ নামে এক হকার বলেন, ‘এখানে ১২ বছর ধরে পেয়ারা বিক্রি করছি। আমি জানি ভাষা আন্দোলনের সময় এই জায়গায় ছাত্রদের ওপর গুলি হয়েছিল।’

 

জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মাঝেমধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তবে তাতে কাজ হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার দখল করে নেয় হকাররা। পেছন থেকে তাদের মদদ দেয় প্রভাবশী একটি চক্র। অভিযোগ আছে, এখানে দোকান করার বিনিময়ে হকাররা নিয়মিত চক্রটিকে টাকা দেয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, প্রতিদিনই টাকা দিতে হয়। কোনো দিন দুপুরে আবার কোনোদিন সন্ধ্যায় কিছু লোক এসে টাকা নিয়ে যায়। আমার কাছ থেকে দিনে আড়াইশ’ টাকা নেয়। তবে সবার কাছ থেকে সমান নেয় না। যারা বেশিদিন এখানে আছেন, তাদের কাছ থেকে কম নেয়।

 

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, হকারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আমরা বেশিকিছু করতে পারি না। কারণ এটা আমাদের আওতার মধ্যে না। এর দায়িত্ব হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলে দায়িত্বরত পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশ।

 

তিনি বলেন, আমতলা গেট আমাদের প্রাণের জায়গা। আমাদের ইতিহাসের অংশ। এই জায়গা পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। জায়গাটির মর্যাদা রক্ষায় আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, একুশে ফেব্রুয়ারির আগেই জায়গাটি হকারমুক্ত করা যাবে।

কৃতজ্ঞতা: দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদক মাহাদী হাসানের প্রতিবেদন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ