শতবর্ষ উপলক্ষে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ বিষয়ে আয়োজিত ওয়েবিনারের গতকাল ছিল প্রথম দিন।

‘ঢাবির সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে’

ডিউ নিউজ ডেস্ক / ১৪০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের লোগো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ এ বিষয়ে সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের ডে মন্টফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপক পারভেজ হারিস। তবে ‘ভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অবস্থার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তুলনা চলে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশ্যই কিছু সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যে বসাবসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, একাডেমিক উন্নয়নে আমাদের সম্পৃক্ত করুন।’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে এক ওয়েবিনারে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অংশ নিয়ে পারভেজ হারিস এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে গত জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার আয়োজন করছে। গত ছয় মাসের প্রতিটিতে একটি করে বিষয়ের ওপর তিন দিনব্যাপী ওয়েবিনার হয়। এর শেষ ধাপে ‘উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ’ বিষয়ে আয়োজিত ওয়েবিনারের গতকাল ছিল প্রথম দিন। ওয়েবিনারের দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিয়ে অধ্যাপক পারভেজ হারিস বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৬ শতাংশের বেশি লোক দেশের বাইরে থাকেন। বিভিন্ন দেশে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কাজ করে তাঁরা দেশে টাকা পাঠান, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। পারভেজ হারিসের বক্তব্যের বিষয় ছিল ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে কলাবোরেটিভ অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়—ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সুযোগসমূহ’৷

 

ওয়েবিনারের এই পর্বে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ধশতবর্ষ উদ্‌যাপনে জরুরি পরিকল্পনার গুরুত্ব’ শীর্ষক বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১০০-এর মধ্যে দেখতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ইনডেক্সড জার্নাল থাকতে হবে। এর জন্য আমাদের বিদ্যমান জার্নালগুলো উন্নত করতে হবে। বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আফনান হোসেন, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদা আনোয়ার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের আবু সুফিয়ান প্রমুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও ইউজিসি অধ্যাপক হাসিনা খান পর্বটি সঞ্চালনা করেন।

 

উন্নত বিশ্বে গণরুম সংস্কৃতি নেই

সন্ধ্যায় ওয়েবিনারের প্রথম পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম ‘মহামারি এবং বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে অনেক ক্ষেত্রে করোনার টিকা নেওয়ার আগেই আবাসিক হল খোলা হয়েছে। কারণ, ওখানে গণরুম বলে কোনো সংস্কৃতি নেই। হল খোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা আমরা খোলাখুলি বলি না, তা হলো আমাদের গণরুম সংস্কৃতি।’

 

এই পর্বে ‘অবাধ মাধ্যমের যুগে উচ্চশিক্ষার সীমা পেরোনো: জ্ঞান নাকি শৃঙ্খলা?’ বিষয়ে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন।

 

‘মহামারি ও উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ: বৈশ্বিক প্রবণতা ও বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ বিষয়ে এই পর্বে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এ এস এম আলী আশরাফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ও ইউজিসি অধ্যাপক ফকরুল আলম পর্বটি সঞ্চালনা করেন।

কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ