করোনায় উদ্ধৃত ৯৫ কোটি টাকা

মূল বাজেট কমেছে, গবেষণায় বরাদ্দ বেড়েছে

ডিউ নিউজ ডেস্ক / ৫১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১
সিনেট অধিবেশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় বাজেট কমেছে ৩৮ কোটি টাকা। তবে এ অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় বাজেট বেড়েছে। গত বছর গবেষণা মঞ্জুরী খাতে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ বছর এ খাতে বাজেট দেয়া হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এ বছর ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বাজেট পাশ করা হয়। যা গতবছর ছিলো ৮৬৯ কোটি টাকা।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ^বিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সিনেট অধিবেশনে এ বাজেট পাশ করা হয়। সিনেটের চেয়ারম্যান ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত ও ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য সিন্ডিকেট ৮৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন ব্যয় অনুমোদন করেছে।

 

এর মধ্যে বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ ৬১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ৭৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, গবেষণা মঞ্জুরি বাবদ ১৯ কোটি টাকা যা মোট ব্যয়ের ১ দশমিক ৩২ শতাংশ, অন্যান্য অনুদান বাবদ ১৯ কোটি ১২ লাখ টাকা যা প্রস্তাবিত ব্যয়ের ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, পণ্য ও সেবা বাবদ ১৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা যা মোট ব্যয়ের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মূলধন খাতে ২১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা যা মোট ব্যয়ের ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিমক থেকে পাওয়া যাবে ৬৯৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, নিজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা এবং ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের মূল বাজেটে বিমক-এর অনুদানের তুলনায় ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বিমক-এর বরাদ্দ ৫১ কোটি ৫২ লাখ টাকা কমবে।

কোষাধ্যক্ষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের নতুন নতুন খাত খুঁজে বের করতে হবে অথবা সরকার থেকে বিশেষ অনুদান চাওয়া যেতে পারে।

 

সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোন ধরনের কোন স্থাপনা নির্মান করা যাতে না হয়। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম ঘটবে না। প্রধানমন্ত্রী যখন মাস্টাপ্ল্যানের অনুমোদন দিবেন তখন থেকেই নতুন করে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, অনেকেই বলছেন, সিদ্ধান্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হয় কেন? প্যানডেমিকের একটি বৈশিষ্ট্য হলো অনিশ্চয়তা। এ সময়ে আজকে একটি সিদ্ধান্ত আসবে, পাঁচদিন পর আরেকটি সিদ্ধান্ত আসবে। এটা খুব স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও তাই হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, গবেষণা এবং অর্থ একে অপরের পরিপূরক। আমরা শুধুমাত্র গবেষণা, গবেষণা বললে হবে না। তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার স্পৃহা তৈরী করা।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এস মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোভিড টেস্ট করছে। তাছাড়া করোনার একেবারে প্রথমদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিকট টেস্ট কীট উদ্ভাবনের জন্য ৪৫ লাখ টাকার একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন ধরনের সাড়া দেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি সাড়া না দেয় কোন কীট কিন্তু ব্যবহার করা যাবে না। আমাদের প্রচেষ্টার অভাব ছিলো না, কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে আমাদের প্রচেষ্টাগুলো আলোর মুখ দেখছে না। তিনি বলেন, আমরা যেমন স্ট্রাকচারাল মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছি, একইভাবে একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানও প্রণয়ন করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ