• শুক্রবার, ০২ জুন ২০২৩, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
রবি রশ্মির উদ্যোগে ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান ঢাবি উত্তরবঙ্গ চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ঢাবিতে আনঃহল দাবা ও ক্যারাম প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বঙ্গবন্ধুর জীবন ও দর্শন থেকে শিক্ষা নিতে হবে: ঢাবি ভিসি ঢাবির শহীদুল্লাহ হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মাথা ঘুরে পড়ে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু বম জনগোষ্ঠীর উপর হামলা, বিচারের দাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ঢাবি শিক্ষার্থী হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি আমাদের শিল্প সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে:সৈকত ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকানো গিয়েছে :ঢাবি ভিসি

শুধু ইবাদাত নয়, রমজান এখন সংস্কৃতি ও মিলনমেলার মাস

dunews
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩

রমজান মাস ইবাদতের মাস। কিন্তু রমজানের সময় ইবাদতের বাইরে পালিত বিশেষ রীতি-নীতি একটি সংস্কৃতিক রূপ লাভ করেছে। ভোররাতে উঠে সেহরি খাওয়া, সন্ধ্যায় মাগরিবের আজান হলে একত্রে ইফতারি করা, কিংবা একত্রে তারাবির নামাজ আদায় করা—সবকিছুই রমজানের সময়টাকে একটি বিশেষ রূপ দান করে।

রমজানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়লেরও বিরাজ করে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। হলপাড়া, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও টিএসসিসহ বিভিন্ন স্থানে বসে ইফতারির দোকান। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসলে বিক্রিও জমজমাট হয়ে ওঠে। শেষ সময়ে রীতিমত হাঁক ডেকে ইফতার বিক্রি করেন বিক্রেতারা। মনে হয় যেন উৎসব চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্রেতা হিসেবে সেখানে অংশগ্রহণ করে।

রমজানে ক্লাস চালু থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা নিজের পরিবারের সঙ্গে একত্রে রমজান কাটাতে পারছেন না। অনেকে আবার প্রথমবারের মতো বাড়ির বাইরে রোজা রাখছেন। ফলে, বাড়িতে মায়ের মমতাস্পর্শী হাতের রান্না তারা কপালে জোটে না। পরিবারের সকলে মিলে একসাথে বসে ইফতার করার আনন্দ তারা পান না। সে জায়গাটা কিছুটা হলেও পূরণ করে হল, বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুমহল।

ইফতারের সময় হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও বিভাগভিত্তিক বন্ধুমহল একত্রে বসে যান। টিএসসি, মল চত্ত্বর কিংবা কার্জন হলের সামনে ঘাসের উপর পেপার বিছিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকেন ইফতারের। সকলে মিলে একত্রে তৈরী করেন আরেকটি পরিবার। যে পরিবার তার আপন পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট কিছুটা হলেও ভুলিয়ে রাখে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে ব্যস্ততা দেখা যায় শিক্ষার্থীদের মাঝে। কে কোথায় ইফতার করবেন তার জোগাড় শুরু হয়ে যায়। কেউ যান ছোলা-মুরিসহ ভাজাপোড়া কিনতে। কেউ কাটাকাটির কাজগুলো করেন। কেউ আবার শরবত বানানোর দায়িত্ব পালন করেন। এভাবে সকলের সহযোগিতায় ইফতার সৌন্দর্যমন্ডিত হয়ে ওঠে।

রাতে আবাসিক হলগুলোতে চলে তারাবির নামাজ। পবিত্র কোরান তেলাওয়াতের সুরে হলগুলোতে একটি মনোরম আবহ তৈরী হয়। অনেক শিক্ষার্থী আবার ঘুরে ঘুরে একেকদিন একেক হলের মসজিদে নামাজ আদায় করে।

সেহরির সময় বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে এবং ম্যাসে শিক্ষার্থীদের ভীড় দেখা যায়। সময় যে নির্ধারিত। তাই, সবার মাঝে একটি অঘোষিত তাড়া লক্ষ করা যায়। অনেকে আবার বন্ধুমহলসহ দলবেঁধে খেতে যান ক্যম্পাসের বাইরে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে রমজান শুধুমাত্র একটি ইবাদতের মাস নয়। একই সাথে এটি একটি মিলনমেলারও সময়। প্রথম কয়েকটি রোজা যাওয়ার পরই ক্যম্পাসে শুরু হয় বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, বিভাগ, হলভিত্তিক সংগঠনের ইফতারের হিড়িক। ইফতারকে সামনে রেখে মিলন ঘটে অগ্রজ এবং অনুজদের। টিএসসি মিলনায়তন, সুইমিংফুলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মিলনায়তন ও চত্ত্বরে এসব ইফতার আয়োজিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এসব অনুষ্ঠানে সানন্দে অংশগ্রহণ করেন। কেউ কেউ দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে নিজেদের পুরনো সব স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান। এইতো সেই জায়গা, যেখানে তারা কাটিয়েছেন নিজের যৌবনের উড়ন্ত কিছু সময়। একটা সময় তো তারাও এমন ইফতার আয়োজন করতেন। জীবনের পেরিয়ে আসা আনন্দময় সময়কে কল্পনা করে তারা উৎফূল্ল হয়ে ওঠেন। অনুজদের সঙ্গে ভাগ করে নেন নিজের আনন্দ-হাসি, দুঃখ-কান্নার গল্পগুলো।

রমজানের সময় বিভিন্ন রীতির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের নিগূঢ় বন্ধন দেখা যায়। দলবেঁধে ইফতার, সেহেরি আর তারাবিতে তাদের মধ্যে একটি আন্তরিকতা ও সহযেগিতার সম্পর্ক তৈরী হয়।

এ সম্পর্কে স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত বলেন, রমাজনের সময় একত্রে ইফতার চমৎকার ভ্রাতৃত্ব তৈরী করে। মাঝে মাঝে ভুলেই যাই যে বাড়ির বাইরে ইফতার করছি। বন্ধুবান্ধবসহ এইখানে আরেকটা পরিবার। আমরা সেই পরিবারের সাথে ইফতার করি।

রমজানের এই ইফতার তৈরী করে একটি অসাম্প্রদায়িক বন্ধনও। মুসলিম ছাড়াও ইফতারে অংশ নিতে দেখা যায় ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে তারা উৎসবের মতোই ইফতার আয়োজনে অংশ নেন।

কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী সেজ্যুঁতি বিশ্বাস বলেন, রোজায় এ ধরণের ইফতার ভালোই লাগে। সবার সাথে দেখা হয়। একটা আন্তরিকতার সম্পর্ক তৈরী হয়। একটা মিলনমেলা হয়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর