• বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন
  • English

নতুন বইয়ে ভুল থাকলে জানানোর আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৩
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা বইয়ে কোথাও ভুল থাকলে তা জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে জানাবেন, আমরা আগামী বছরের জন্য সেগুলো সংশোধন করব এবং বাকি ক্লাসের বইগুলো আমরা সেই আলোকে তৈরি করব। এই বছরের বইগুলো কিন্তু পরীক্ষামূলক সংস্করণ।’

 

শনিবার ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষা উপহার বিতরণ ও ‘একুশ শতকের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ছাত্রসমাজের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমের পরীক্ষামূলক অংশ হিসেবেই প্রাথমিকে প্রথম শ্রেণি ও মাধ্যমিকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে বই দেয়া হয়েছে। এসব বইতে কোথাও ভুল থাকতে পারে, কোনো কোনো বিষয় নিয়ে কারো অস্বস্তি থাকতে পারে।

 

‘আমাদেরকে জানাবেন, আমরা আগামী বছরের জন্য সেগুলো সংশোধন করব এবং বাকি ক্লাসের বইগুলো আমরা সেই আলোকে তৈরি করব। এই বছরের বইগুলো কিন্তু পরীক্ষামূলক সংস্করণ।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা যা শিখবো তা করে করে শিখবো। সেই লক্ষ্যেই নতুন শিক্ষাক্রম। ২০২৩-২৪-২৫ এই তিন বছর মিলিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে। এ বছর যেই নতুন বইগুলো গেছে সেগুলো পরীক্ষামূলক হিসেবেই গেছে, আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমের।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর আমরা ৩৩ হাজার মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে বইগুলো দিয়েছি। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নেব এবং সারা বছর বইগুলোকে আমরা পরিমার্জন, পরিশীলন করব।’

 

দীপু মনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঔপনিবেশিক এবং সেটা শুধু কেরানি পয়দা করা শিক্ষাব্যবস্থা। তিনি বলেছিলেন, এই ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে স্বাধীন দেশের স্বাধীন সোনার বাংলা গড়ার যে পরিকল্পনা সেটি সম্ভব হবে না। সেজন্যই তিনি প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরতে খোদাকে দিয়ে একটি কমিশন গঠন করেছিলেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

 

‘তার দিক নির্দেশনায় যে প্রথম শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলাদেশে গড়ে উঠেছিল, সেটি বাস্তবায়িত হলে আজকে আমরা যে বাংলাদেশ দেখতে পাচ্ছি, এটি আমরা আরো আগে দেখতে পেতাম। বরং হয়তো আরো এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ আমরা পেতে পারতাম।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন একটি সময় উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছি। কারণ সামনে ২০৩০ সালে আমাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বিষয় রয়েছে। যেটি আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। যেখানে ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখানে চার নম্বরে যেটি রয়েছে সেটি হলো শিক্ষা এবং সেটি সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী স্মার্ট শিক্ষার্থী হবে এবং সেই স্মার্ট মানুষ তৈরি হওয়ার মাধ্যমেই কিন্তু স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। আমার চিন্তাই স্মার্ট হব। কোনটি সঠিক কোনটি বেঠিক সেটা আমি জানব। আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব,আমি সমস্যা নিরূপণ করতে পারব,আমি সুখ্য চিন্তা করতে পারব,দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ হবো।’

 

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকত। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর